আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শায়খুল হিন্দের চিন্তাধারা
মূল
মাওলানা মুহাম্মাদ ঈসা মানসূরী
চেয়ারম্যান, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ফোরাম, লন্ডন
অনুবাদ
হাফেজ মাওলানা মিসবাহুল ইসলাম
উপমহাদেশে হযরত শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. এর পর শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রহ. এর কার্যক্রম, ভূমিকা ও কর্মকৌশল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। মোগল সালতানাত শেষ হওয়ার পর হযরত শাহ ওলিউল্লাহ রহ. মুসলিম উম্মাহকে রামরাজ্য বা বাỏণ্য সরল গ্রাসে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। আর হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. উপমহাদেশে ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের আধিপত্য বিস্তার এবং ইসলামের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ও হিন্দুদের আঁতাতের পর মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্বের নির্দেশনা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি প্রদান করেন।
ফলে উপমহাদেশের ইতিহাসে তাঁর কার্যক্রম মুসলিম উম্মাহর জন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি কেবল দারুল উলূম দেওবন্দের প্রথম ছাত্রই ছিলেন না বরং হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী রহ. এর চিন্তা-চেতনা, কার্যক্রম এবং জ্ঞানের একনিষ্ঠ প্রকৃত উত্তরসূরি।
১৮৫৭ এর সিপাহী বিপ্লবে পরাজয় হলে ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যবাদী এবং বাỏণসা¤্রাজ্য আঁতাত করে মুসলিম জাতিকে গোলামীর শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার চক্রান্ত করে। সে সময় হিন্দুস্তানের মুসলিম জাতির রণাঙ্গনে গিয়ে শত্রুর মুখোমুখি লড়াই করার মত সামর্থ ছিল না। তারা সেই সাহস হারিয়ে ফেলেছিলেন। কেননা ১৮৫৭ সালে উলামা-মাশায়েখ এবং ঈমানী চেতনাধারী শত সহ¯্র নয় বরং লক্ষাধিক নিরপরাধ ঈমানদার মানুষ খুন করা হয়েছে এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয় এবং আন্দামান দীপপুঞ্জে তাদেরকে বন্দি করে রাখা হয়। এমন নাজুক ও সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে মুসলিম উম্মাহর জন্য নিজের সব কিছু উৎসর্গকারী এ সকল আলেমেদীন জাতির ক্ষত নিরাময় এবং পরবর্তী যোগ্য উত্তরসূরি তৈরির লক্ষ্যে নতুন এক কর্মকৌশল বাস্তবায়নে উদ্যোগী হন।
সেই কর্মকৌশল এই ছিল যে, কিছু দিনের জন্য দুশমনের দৃষ্টির আড়ালে চলে যাওয়া। নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে শত্রুদের ধাঁধায় ফেলে শিক্ষা-দীক্ষা এবং জিহাদী প্রেরণায় উজ্জীবিত একটি প্রজন্ম তৈরি করা। এরই ধারাবাহিকতায় দেওবন্দে দারুল উলূম এবং গঙ্গুহে খানকা প্রতিষ্ঠা করা হয়। হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবীর ভাষায়, ‘আমি দুশমনদের ধাঁধায় ফেলার জন্য আমার মিশনের উপর ইলমী চাদরের লেবেল লাগিয়ে দিয়েছি। শায়খুল হিন্দের ভাষায় ‘আমার উস্তাদে মুহতারাম মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. কি শুধুই দরস-তাদরীসের জন্য এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন? কখনোই না; বরং শামেলীর পরাজয়ের ক্ষতিপূরণের জন্য ও কৌশলগত প্রথম পদক্ষেপ বা ভূমিকা ছিল এটি।
অদ্যবধি আমরা শায়খুল হিন্দ হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রহ.Ñএর পলিসি এবং কর্মকৌশলের যুগেই আছি। উপমহাদেশে দীনের সকল শাখা-প্রশাখার সূত্র শায়খুল হিন্দ হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রহ. পর্যন্ত পৌঁছে একত্রিত হয়ে যায়; হোক সেই সিলসিলা হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.Ñএর অথবা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ. Ñএর অথবা হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.Ñএর কিংবা হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর বা মাওলানা শিব্বির আহমদ উসমানী রহ. এর সিলসিলা। কমবেশি বিংশ শতকের সমস্ত আকাবির হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এর শাগরেদ এবং দীক্ষা প্রাপ্ত ছিলেন। সে সকল আকাবিরগণ দীনে ইসলাম এবং মুসলিম উম্মাহর সংরক্ষণ ও রেনেসাঁর স্থায়িত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রণাঙ্গন সামাল দিয়েছেন। হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর রণাঙ্গন ছিল উপমহাদেশ এবং ইসলামী বিশ^ হতে ব্রিটিশ বেনিয়াদের বিতাড়িত করা। হযরত থানভী রহ. এর কাজ ছিল তাসাউফ সংক্রান্ত। অর্থাৎ মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. এবং হযরত শাহ ওলীউল্লাহ রহ. এর অসম্পন্ন কাজকে সম্পন্ন করা। তাসাউফকে বহিরাগত বিদআত ও ইসলাম বহির্ভূত কর্মকা- হতে পুতঃ পবিত্র করে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রচলিত করা। হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ এর মূল কাজ এই ছিল যে, মুসলিম সমাজ তাদের মৌলিক ও বুনিয়াদী নির্দেষনা তথা কালেমা ও নামায ইত্যাদি হতে দূরে সরে গিয়েছিল। সুতরাং তাদের ঈমানী শক্তিকে সজিব ও শক্তিশালী করে পুরো দীনের ওপর তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করা। হযরত আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ. হাদীস ও উলূমুল হাদীসকে এমন সময় পুনঃরুজ্জীবিত করলেন যখন এগুলোর চর্চা ইসলামী বিশ^ হতে উঠে যাচ্ছিল।
মোটকথা সে সময় দীনের বিভিন্ন শাখায় যারা উল্লেখযোগ্য খেদমত আঞ্জাম দিয়েছিলেন তারা সকলেই হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এর শিষ্য ছিলেন।
দারুল উলূম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. হিন্দুস্তানে ইসলাম ও মুসলমানদের উন্নতি এবং তাদের স্থায়িত্বের জন্য পরিকল্পনা তিনি গ্রহণ করার পর তা কার্যকর করার মত বেশি একটা সময় তিনি পাননি। মাত্র চল্লিশ বছর বয়সেই তাঁর জীবন প্রদীপ নিভে যায়। তাঁর মিশনকে শায়খুল হিন্দ রহ. সম্পন্ন করেন। আদর্শ হিসেবে আজও যদি দেওবন্দ অনুসারীদের জন্য কোনো মহান ব্যক্তি থেকে থাকেন তাহলে শায়খুল হিন্দ রহ. সত্ত্বাই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আইডিয়াল বা আদর্শ।
চারটি গুণের সমষ্টি হল দারুল উলূম দেওবন্দ। যথাÑ
০১. পরিপূর্ণ ইলম।
০২. পূর্ণাঙ্গ আমল।
০৩. আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্ক ও পরিপূর্ণ খোদাভীতি।
০৪. পূর্ণাঙ্গ বীরত্ব ও আত্মমর্যাদাবোধ।
বর্তমান সময়ে আমরা জ্ঞানগত আমলগত, চিন্তাগত মোটকথা সর্ব দিক থেকে শায়খুল হিন্দ রহ.Ñএর প্রয়োগের যুগে বাস করছি। আজ উপমহাদেশে দীনের সকল শাখায় যাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা শায়খুল হিন্দ রহ.Ñএর শাগরেদদের হাতে গড়া মানুষ।
মনে রাখতে হবে যে, শায়খুল হিন্দ রহ. কর্মতৎপরতাসমূহ কেবল উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য নয় বরং সারা বিশে^র নিপীড়িত, নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহর জন্য প্রযোজ্য। তিনি খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, হিন্দুস্তান থেকে বৃটিশ বেনিয়ারা উৎখাত হওয়ার সাথে সাথেই অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর মধ্যেও এর প্রভাব পড়বে। বৃটিশদের প্রভাব প্রতিপত্তি অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর থেকে শিথিল হয়ে পড়বে। সুতরাং (তাদের কর্র্তৃত্ব চিরতরে খতম করে দেয়ার লক্ষ্যে) বহির্বিশে^ কর্মতৎপরতা জোরদার করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর পার্সোনাল সেক্রেটারী এবং অত্যন্ত বিচক্ষণশিষ্য মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধিকে বহির রাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেন যা একটি বৈশি^ক মিশন ছিল। পরিকল্পনা হয় ইউরোপ থেকে অস্ত্র এবং উসমানী খেলাফত থেকে সৈন্যবাহিনী নেয়া হবে। অপরদিকে আফগান থেকে নিরাপদ রাস্তার দিক নির্দেশনা ও ফৌজি সাহায্য নেয়া হবে এবং বিভিন্ন এলাকার জানবাজ যোদ্ধাদের নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে সুনির্ধারিত সময়ে গোটা হিন্দুস্তানে একযোগো ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কূচক্রি ইংরেজদের এক এক করে শেষ করে দিয়ে পুরো হিন্দুস্তানকে স্বাধীন করা হবে। কিন্তু ইংরেজরা তাদের ইন্টেলিজেন্স এবং গোয়েন্দা-বাহিনীর মারফতে কিছু একটা হতে যাচ্ছে বলে আঁচ করতে পারে। এই মুহূর্তে ডা. আনসারী সাহেব একটি গোপন চিঠি এই মর্মে প্রেরণ করেন যে, জনাব! ‘আপনি গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই এই মুহূর্তে হেজাজ ত্যাগ করুন। আর খেলাফতে উসমানিয়ার তুর্কি গভর্নর গালিব পাশার সাথে যোগাযোগ করুন এবং তাঁর মাধ্যমে খেলাফতে উসমানিয়ার সেনাপতি আনোওয়ার জামালপাশার সাথে সাক্ষাত করে আপনার মিশনকে বেগবান করুন’। কিন্তু অপরদিকে আরেক ঘটনা ঘটেছে। বৃটেন গোয়েন্দাবাহিনীর ইন্টেলিজেন্স লরেন্স অব আরাবিয়া মাধ্যমে তুর্কিদের থেকে আরব বাসীদের স্বাধীতার মূলা ঝুলিয়ে তুর্কিস্তান কর্তৃক মক্কার শাসক শরিফ মক্কাবাসিদেরকে বিদ্রোহ করতে উৎসাহিত করে। উসমানী খেলাফতের বিরোধী এ সকল গাদ্দাররা শায়খুল হিন্দ রহ. এবং তাঁর সহকর্মীদের গ্রেফতার করে বৃটিশদের হাতে সোপর্দ করে দেয়। আর এভাবেই হযরত শায়খুল হিন্দ প্রায় সাড়ে তিন বছর মাল্টার কারাগারে বন্দি ছিলেন।
হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এই বৃদ্ধ বয়সে জেলখানায় যে প্রচ- কষ্ট স্বীকার করেছেন, তাতে যার ফলে তাঁর শরীর একেবারে ভেঙ্গে পড়েছিল এবং তিনি বিভিন্ন পীড়াদায়ক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। সুতরাং যখন তিনি মুক্তি পেয়ে সেখান হতে ফিরে আসেন তখন তাঁর শরীরে কিছু ছিল না। সমস্ত শক্তি ও ক্ষমতা তারা শেষ করে দিয়েছিল। যার ফলে তিনি এরপর আর বেশি দিন বাঁচেননি। মুক্তির পর বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে দিয়ে মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস শয্যাশায়ী অবস্থায় জীবিত ছিলেন। হাড্ডির গোড়ায় গোড়ায় ব্যথা, আমাশয়, অশর্^রোগ ও জ¦র ইত্যাদি যন্ত্রণাদায়ক রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এতদসত্ত্বেও তিনি স্বীয় পরিকল্পনা হতে এক মুহূর্তের জন্যও উদাস হননি। হযরতের এ সকল চিন্তাধারা ও কর্মকা- দেখে অনুভূত হয় যে, তিনি তাঁর চিন্তাধারা ও নীতির বিচারে সে সময় এষড়নধষরুধঃরড়হ তথা বিশ^ায়ন এর কথা ভাবছিলেন যে সময় ইউরোপ জাতিয়তাবাদী তথা ন্যাশলালিজমের যুগে পড়েছিল।
হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. ৮ জুন ১৯২০ সালে মাল্টা থেকে মুক্তি পেয়ে সমুদ্রিক জাহাজে করে মুম্বাই পোর্টে অবতরণ করেন। মুম্বাই দুদিন অত্যন্ত কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। বন্দর হতে মাওলানা শওকত আলী এবং খেলাফত আন্দোলনের হাজার হাজার উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবীকর্মী শানদার একটি মিছিলের সুরতে খেলাফত কমিটির সদর দপ্তর মুহাম্মাদ আলী রোডে হযরতকে নিয়ে গেলেন।
মুম্বাইয়ে ভারতের বড় বড় রাজনৈতিক পার্টির নেতৃস্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ও প্রখ্যাত রাজনীতিকগণ হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এর সাথে সাক্ষাত করেন। যাদের মধ্যে হতে মাহাত্মা গান্ধি এবং মাওলানা আব্দুল বারী ফিরিঙ্গী মহলির মত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নাম উল্লেখযোগ্য। সে সময়ের অবস্থা এমন ছিল যে, পুরো উপমহাদেশে হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. কেবলমাত্র আলেম উলামাদেরই অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন না বরং কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, সমাজবাদীসহ প্রত্যেক দলই শায়খুল হিন্দ রহ.কে নিজেদের মহান নিদের্শনাদানকারী হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। দেওবন্দে গিয়েও তিনি সকল রাজনৈতিক নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। কিন্তু দেওবন্দ মাদরাসাকে গভমেন্টের রোষানল থেকে বাঁচানোর জন্য কঠোরভাবে এর গোপনীয়তাকে রক্ষা করতেন।
হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে দূরবর্তী স্থানে একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। যা কুঠি নামে পরিচিত ছিল। কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, সোসালিস্টসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এর সাথে সাক্ষাত ও পরামর্শ নেয়ার জন্য সাধারণ গভীর রাতে চুপিসারে সেই বাড়িতে আসতেন এবং সেখানেই অপেক্ষা করতেন। আর শায়খুল হিন্দ রহ. অর্ধরাত্রি অতিবাহিত হবার পর গোপনে এসে তাদের সাথে মিলিত হতেন। খাঁন আব্দুল গফ্ফার সাহেবের উপর এই নির্দেশনা ছিল যে, শায়খুল হিন্দ রহ. এর সাথে সাক্ষাতের জন্য তিনি যেন দেওবন্দ স্টেশনে না নামেন। বরং এক স্টেশন আগে বা পরে যেন অবতরণ করেন। হযরত নিজেই নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে সাক্ষাত করবেন।
তিনি মাল্টায় বন্দি থাকাকালীন সময়ে মুসলিম উম্মাহর অগ্রগতি ও উন্নতির জন্য সর্বদা চিন্তাভাবনা ও ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। যার ফলে আমরা দেখতে পাই জেলখানা থেকে মুক্তি লাভের পর তিনি তার নীতি ও কর্মকৌশল একেবারে বদলে ফেলেছিলেন। হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এর নতুন কর্মকৌশল দুটি বিষয়ের উপর ভিত্তিশীল।
এক. যুদ্ধংদেহীতার পরিবর্তে সংলাপ করা।
দুই. বৃটিশ বেনিয়া কর্তৃক প্রণিত শিক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে এক নতুন ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা।
প্রথমতঃ যুদ্ধংদেহী মনোভাবের পরিবর্তে সংলাপ, বক্তৃতার মাধ্যম কাজে লাগানোর এই কৌশল গ্রহণের কারণ হল যে, তিনি লক্ষ্য করলেন তাগুতী শক্তি দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছে অপর দিকে ইসলামী বিশ^ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং পরস্পরিক বিশ^স্থতা শিথিল হয়ে যাচ্ছে। মুসলমানদের মধ্যে গাদ্দারী ও প্রতারণার অঙ্কুর মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। এই গাদ্দারীর কারণেই রেশমী রুমাল আন্দোলন ব্যর্থ হয়। সুতরাং একজন দূরদর্শী ও দক্ষ জেনারেলের মতই তিনি যুদ্ধের কৌশল ও যুদ্ধনীতি পরিবর্তন করলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত দেখে আসছিলেন যে, মুসলমানগণ দেড়শত বছর যাবত জিহাদের শ্লোগান দিয়ে বৃটিশ বেনিয়াদের দ্বারা টুকরা টুকরা হচ্ছিল। কেননা ইংরেজরা তাদের স্থানীয় ভ্রাতৃগোত্র হিন্দুদের সাথে হাত মিলিয়ে মুসলমানদের জেহাদী কর্মকা-কে নিস্ত্রিয় করছিল। ইংরেজরা হিন্দুদের সাথে হাত মিলিয়ে পরস্পরের মাঝে শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তুলেছিল।
অপর দিকে মুসলমানরা অনৈক, বিচ্ছিন্নতা এবং মতবিরোধের কারণে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। এজন্য হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এর নতুন পলিসি এই ছিল যে, সংলাপের মাধ্যমে স্থানীয় ভ্রাতৃমহল হিন্দুদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায় উজ্জীবিত করে তাদের সাথে নেয়া। তিনি জানতেন যে, মুসলমানগণ মুসলিম নেতৃত্বের অধীনে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কুরবানী দিতে প্রস্তুত কিন্তু হিন্দুরা মুসলিম নেতৃত্বের অধীনে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিবে না। তাই এই সংকট কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে হিন্দুদের মধ্য হতে মহাত্মা গান্ধিকে সামনে বাড়িয়ে দেন এবং নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করান। কেননা যতক্ষণ না সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়কে সাথে না নেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বৃটিশ বেনিয়াদের হিন্দুস্তান ছাড়তে বাধ্য করা সম্ভবপর হবে না।
হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এর দ্বিতীয় কর্মকৌশল এই ছিল যে, লর্ড মিকালে কর্তৃক প্রণীত যে শিক্ষাব্যবস্থা মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভ্রান্ত অংশকে ইংরেজদের চিন্তাধারা ও জীবনব্যবস্থার উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিয়েছিল, এর বিপরীতে এক নতুন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা। কেননা বৃটিশরা তাদের এ নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত প্রজন্মের প্রতি অনুগ্রহের হাত বাড়িয়ে তাদেরকে নিজেদের ভাষ্যকার বানিয়েছিল। চালচলন ও চিন্তাধারায় তারা তাদের উত্তরাধিকারী বানিয়ে ফেলেছিল। এজন্য শায়খুল হিন্দ রহ. ভীষণ দুর্বলতা ও অসুস্থতা সত্ত্বেও আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে আগমন করেন। যেন এ সকল আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত যুবক শ্রেণিকে স্বীয় চিন্তা-চেতনা ও দিলের ব্যথায় শরীক করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো যায়। হযরতের দুর্বলতা ও অসুস্থতার অবস্থা এই ছিল যে, দেওবন্দ থেকে পালকিতে শুয়ে রওনা হন। অবসাদগ্রস্থতার কারণে মাওলানার আওয়াজ আসছিল না। ফলে তিনি তাঁর প্রবন্ধ পাঠ করতে পারছিলেন না। পরে মাওলানা শিব্বির আহমদ উসমানী রহ. তার পক্ষ হতে সেই প্রবন্ধ পাঠ করেন। প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, ‘আমি আমার এ দুর্বলতা, অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কঠিন অবস্থায়ও আপনাদের নিমন্ত্রণে এ জন্য ‘লাব্বাইক’ বলেছি যে, এখানে নিজের একটি হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
অতঃপর তিনি বলেন, ‘ওহে নওজোয়ান ভায়েরা! যখন আমি দেখলাম, যে ব্যথা ও বেদনার পেছনে আমার জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে, মাদরাসা ও খানকায় এই ব্যথা ও বেদনা উপশমকারীর সংখ্যা নেয়ায়েত কম। পক্ষান্তরে স্কুল ও কলেজে এদের সংখ্যা বেশি। তো সঙ্গত কারণেই আমার কতক শুভানুধ্যায়ী ও প্রিয় মানুষ আলীগড়ের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন। আর এভাবেই আমরা হিন্দুস্তানের দুটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম ও মুসলিম ইউনিভার্সিটিটি একসূত্রে আবদ্ধ করেছি।
এই ভাষণের ভূমিকায় তিনি বলেন, ‘আপনাদের মধ্য হতে যারা গবেষক, চিন্তাবিদ ও ইতিহাস সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত আছেন তারা নিশ্চয় জানেন যে, আমাদের বুযুর্গ ও মুরব্বীগণ কোনো সময়ই কোন ভিনদেশী ভাষা কিংবা অন্য জাতির থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা করার ব্যাপারে কুফরী ফতোয়া আরোপ করেননি। হ্যাঁ, তবে একথা অবশ্যই বলেছেন যে, সাধারণত যেমনটি দেখা যাচ্ছে যে, ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা খৃস্টবাদের রঙ্গে রঙ্গীন হয়ে যাচ্ছে কিংবা নাস্তিকতা ও বেয়াদবী মূলক দীনদার শ্রেণি ও দীনে ইসলামকে কটাক্ষ করছে। অথবা ইসলাম বিদ্বেষী তাগুত সরকারের পদলেহনে লিপ্ত হচ্ছে। এরকম (ধ্বংসাত্মক কুশিক্ষায়) শিক্ষিত হওয়ার চেয়ে নিরক্ষর থাকাই উত্তম।
হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এর অস্থির দেলের দরদ উপস্থিত আধুনিক শিক্ষিত নওজোয়ানদের অন্তরকে প্রভাবান্বিত করে। সুতরাং যখন তিনি বৃটিশ বেনিয়াদের সব রকম সহায়তা বন্ধের জানান তখন বহু সংখ্যক শিক্ষার্থী ইউনিভার্সিটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। [কেননা সেটি তখন বৃটিশদের অধীনে চলছিল। সেখানে থাকার অর্থ হল বৃটিশদের সহায়তা করা।]
এই ঘটনা ২৯ অক্টোবর ১৯২০ সালের। আর এর মধ্য দিয়েই শায়খুল হিন্দ রহ. এর বদৌলতে আলীগড় ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে আসা ছাত্রদের নিয়ে বড় একটি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি জামেয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। মোটকথা হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. মাল্টা হতে ফিরে এসে উপমহাদেশের মুসলিম সমাজকে দুটি মৌলিক নীতি তথা কর্মকৌশল প্রদান করেছিলেন। এক. সংলাপ
দুই. আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণিকে কাছে টেনে নিজেদের ভাষ্যকার বানানো।
গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে আজ যদি আমরা সংলাপ বক্তৃতার মাধ্যমে বিশ^বাসীর সামনে কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জাগতিক ও মানবতার সমস্যারসমূহের সুষ্ঠু সমাধান দিতে পারতাম।
অনুরূপভাবে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণরা বৈশি^ক ও পারিপাশির্^ক অবস্থা সম্পর্কে যতটুকু ওয়াকিফহাল মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিতরা ততটুকু জানে না। তাছাড়া আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের কাছে সেই ভাষা ও পদ্ধতি আছে যা বহিঃর্বিশে^র মানুষেরা বোঝে। তাদের কমতি হল তাদের কাছে শুধু কুরআন ও সুন্নাহর ইলম নেই এবং এ সম্পর্কে সঠিক দিক নির্দেশনাও নেই। যদি এই দুইকে এক করা যায় তাহলে বর্তমান সময়ের সংকট ও ঘূর্ণাবর্ত হতে মুসলিম উম্মাহর কিশিÍ থেকে পরিত্রাণ পাবে। হায়! যদি শায়খুল হিন্দ রহ. আর কিছু দিন হায়াত পেতেন তাহলে আধুনিক শিক্ষা ও দীনি শিক্ষার মাঝে সম্বনিত একটি প্রজন্ম তৈরি হত।
সবচেয়ে বেশি আফসোসের ও পরিতাপের বিষয় হল যে, শায়খুল হিন্দ রহ. এর তিরোধানের পর আলেমগণ তাঁর নীতি ও কর্মকৌশল একেবারে বেমালুম ভুলে গিয়েছেন। সংলাপের ধারাও অব্যাহত থাকেনি এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণির সাথে মেলামেশার মাধ্যমে তাদেরকে কাছে টানার সিলসিলাও জারি থাকেনি। বরং এদু’শ্রেণির মাঝে দূরত্ব আরোও বৃদ্ধি পেয়েছে। অধম বান্দা একবার হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর একজন বিচক্ষণ শাগরেদ ও বড় আলেমের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম যে, হযরত মাদানী রহ. দারুল উলূম দেওবন্দের শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালন করতেন। শত শত মুরীদের ইসলাহ ও তরবিয়াত করতেন। লেখালেখি, অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও ওয়াজ নসীহতের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকা- ও স্বাধীনতার যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে তিনি বছরকে বছর, মামলা- মুকাদ্দমা ও জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করেছেন এবং মিছিল মিটিং ইত্যাদিতে স্বশরীরে অংশগ্রহণ করেছেন। এতদসত্ত্বেও তিনি হোক কিংবা হযরতের রহ. অন্য কোন খলীফা, কাউকেই হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এর এই পলিসির রাস্তায় দেখা যায় না কেন? এর প্রতি উত্তরে তিনি বলেছিলেন একজন হল সিপাহ সালার বা সেনাপতি, যিনি সৈন্যবাহিনীকে লড়াতে পারেন। পরিচালনা করতে পারেন, অপর একজন হল সিপাহী যিনি নিজের জীবন দিয়ে আমরণ লড়াই করতে পারেন। তো হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. ছিলেন সেনাপতি। আর হযরত মাদানী রহ. ছিলেন জানবাজ সিপাহী। তবে হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. যেই ময়দানের সেনাপতি ছিলেন সে ময়দানে তিনি শত-সহ¯্র স্থলাভিষিক্ত রেখে গিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, হাজারো হাদীসের পাঠদানকারী এবং দেড় শতাধিক তাসাউফের ময়দানে খলীফা বিদ্যমান।
মোটকথা, হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এর মৃত্যুর পর শাগরেদগণ (সরাসরি বা কোন মাধ্যমে দারুল উলূম দেওবন্দের প্রায় সকলেই শায়খুল হিন্দের শাগরেদ) তাঁর নতুন এ দুই নীতির কোন একটির প্রতি ব্রত হননি। ১৯২০ সালের পর আলেম উলামাগণ যদি হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এর দুই নীতিকে কার্যকর করে আধুনিক শিক্ষিতদের কাছে টেনে নিজেদের সমর্থক ও ভাষ্যকার বানিয়ে ফেলতেন তাহলে উপমহাদেশের ইতিহাস ভিন্ন হত। আমাদেরই উদাসিনতা ও অমনোযোগিতার কারণে ইসমায়েলী রাফেজী শিয়া সম্প্রদায় এই যুব সমাজকে আলেমদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে।
ঘটনা এই যে, ১৮৫৭ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত স্বাধীনতা যুদ্ধে উলামায়ে কেরাম ও মৌলবীগণ সমস্ত কুরবানী দিয়েছেন। যখন সেই ত্যাগ-তিতিক্ষার ফল ঘরে তোলার সময় এল এবং স্বাধীনতার সময় ঘনিয়ে এল তখন ইসমাঈলী আগা খাঁন (যে সর্বদা ইংরেজদের দালাল ও চর হিসেবে কাজ করত) ইংরেজদের কতক পা চাটা গোলামদের সাথে নিয়ে ১৯০২ সালে মুসলিমলীগ প্রতিষ্ঠা করে এবং এর মধ্য দিয়ে সে উপমহাদেশের মুসলমানদের প্রতিনিধি বনে যায়। আমাদের চৌদ্দশত বছরের ইতিহাস সাক্ষী, প্রত্যেক যুগে রাফেজী শিয়ারাই মুসলমানদের প্রধান শত্রু ছিল।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. যেমনটি বর্ণনা করেছেন, ‘প্রত্যেক যুগে এই রাফেজীরা মুসলমানদের ইহুদীদের চেয়েও বেশি ক্ষতি সাধন করেছে। সুলতান নুরুদ্দীন জঙ্গী হোক কিংবা গাজী সালাহ উদ্দীন আইয়ূবী। সুলতান মাহমুদ গজনবী হোক কিংবা শিহাবুদ্দীন গাওরী। তাদের প্রত্যেককেই ইসলাম টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সর্বপ্রথম ইসমাঈলী ও রাফেজী শিয়াদের শক্তিমত্তা ও ঔদ্ধতার বিশ দাঁতকে চূর্ণ করতে হয়েছে। বর্তমানে সিরিয়ায় এই আগা খাঁনি শিয়ারাই আহলে সুন্নত তথা সুন্নীদের ওপর বর্বর গণহত্যা চালাচ্ছে।
স্মর্তব্য যে, বর্তমান আগা খাঁন (যিনি ইসমাঈলীদের জীবন্ত খোদা ও জীবন্ত কুরআন মনে করা হয়) এর পিতা ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের কিন্জ নগরিতে মারা যান এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে তার ওসিয়ত অনুযায়ী ১২ বছর পর ১৯৭২ সালে তার লাশ সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে স্থানান্তর করা হয়। এই রাফেজীরা এবং উলামা বিদ্বেষী লবি উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও প্রোপাগা-ায় এমন ঝড় তোলে যে, মৌলভী শব্দ ও আকৃতি গালিতে পরিণত হয়ে যায়।
একশত পঞ্চাশ বছর যাবত যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে লড়াই করেছিলেন এবং সর্ব রকমের কুরবানী দিচ্ছিলেন তারা গাদ্দার এবং হিন্দু ও বৃটিশদের দালাল বলে আখ্যায়িত হতে লাগল। অপর দিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ তো দূরের কথা যুদ্ধের সামান্যতম আঁচড়ও যাদের গায়ে লাগেনি। যাদের ইংরেজী স্যুট, প্যান্ট, কোর্টের লন্ড্রির ভাঁজও নষ্ট হয়নি। আপাদমস্তক যারা ইংরেজী কালচারের ডুবে ছিল, মদ ও শুকরের গোস্তে যারা বুদ হয়ে থাকত তারাই আবার মুসলিম সমাজের প্রতিনিধি বনে গিয়েছিল।
১৯৩৭ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে স্বঘোষিত মুসলিম তারকাদের(!) তথা মুসলিমলীগের ভরাডুবি হয়। এরপর থেকেই মূলত তারা আলেমদের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলে। বিশেষত ১৯৪০Ñ১৯৪৭ পর্যন্ত পাকিস্তান আন্দোলনের সময়কালে ৬-৭ বছর তারা আলেম উলামাদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে। প্রোপাগা-ার ঝড় বয়ে যায় এই নিরপরাধ মানুষগুলোর ওপর দিয়ে মিথ্যা প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে উপমহাদেশের সাধারণ মুসলমানদের মাথা খেয়ে ফেলে তারা। হাঁসির বিষয় হল এ সকল রাফেজী শিয়া যারা তিন খলীফা ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতকে গোড়া থেকেই নিজেদের দুশমন মনে করে তারাই নাকি খেলাফতে রাশেদা কায়েম করতে যাচ্ছে।
এই রাফেজীরা নেতৃত্বে আসার ফলাফল এই দাঁড়িয়ে ছিল যে, তারা উপমহাদেশের মুসলিম উম্মাহকে তিন টুকরা করে তাদের অকেজো করে দেয়। অদ্যাবধি এই তিন স্থানেই মুসলমানদের রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে।
বস্তুত ভারত শত শত গোত্র, ধর্ম, মতাদর্শ ও রসম রেওয়াজের দেশ। এমনকি প্রত্যেক গোত্রের খোদাও ভিন্ন ভিন্ন। সেই ভারতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সকল জাতি গোষ্ঠীকে হিন্দু নাম দিয়ে একত্রিত করে পশ্চাদপদ এই ব্রাỏণ সা¤্রাজ্যকে দুনিয়ার অন্যতম বিশাল একটি ভূখ-ের (যা আশেকে আজিমের রাজত্বের চেয়ে তিন গুণ বড়) উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেয়া হয়।
অন্যদিকে পাকিস্তান রাষ্ট্র কায়েম হতে না হতেই স্বার্থান্বেষী মহল উলামায়ে কেরামকে টিস্যু পেপারের মত ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দেয়। আল্লামা শিব্বির আহমদ উসমানী যাও একজন ছিলেন তাকেও বিষবাণী দিয়ে কৌশলে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। মাওলানা শিব্বির আহমদ উসমানী রহ. পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনে অংশগ্রহণের পর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত হয়ে ফিরে এসে বলেছিলেন, আমি তাদেরকে কিভাবে পথ দেখাব, আমি তো তাদের কোন কথাবার্তাই বুঝতে পারছি না। এ্যাসেম্বেলির সকল কর্মকা- ও কথাবার্তা ইংরেজিতে হয়েছে।
স্মর্তব্য যে, ১৯০৬ সালে মুসলিমলীগ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই তাদের সমস্ত কার্জক্রম ইংরেজিতে হত। কারণ আগা খান এবং তার আত্মিক পুত্র কায়েদে আযমের মাতৃভাষা ইংরেজী ছিল। সে সময়ও যদি উলামায়ে কেরাম মাদরাসাগুলোতে ইংরেজী ভাষাকে শুধুমাত্র একটি ভাষা হিসেবে সিলেবাসভুক্ত করত! কায়েদে আযমের প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানে ইংরেজী ব্যতীত কেউ সম্মানের পাত্র হতে পারে না। বাস্তবতা হল আজও পাকিস্তানে রাফেজী শাসন চলছে। যারা চিন্তাগতভাবে রাফেজী ও শিয়া এরকম রাফেজী জারদারী কবর ও মাজারপূজারীদের সাহায্যে রাষ্ট্রব্যবস্থা চলছে। মোটকথা আমাদের চৌদ্দশত বছরের পুরো ইতিহাস সাক্ষী যে, রাফেজীরা মুসলমানদেরকেই তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু ভাবে।
কেননা মুসলমানদের বিপক্ষে তারা সর্বদা ইহুদী-খৃস্টানদের সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকে। আপনারা অদূর ভবিষ্যতে দেখতে পারেন যে, রাফেজিদের ব্যাপারটিই ইসলাম ও মুসলমানদের এবং আরববিশে^র সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। (বর্তমান সময়ে এমনটিই পরিলক্ষিত হচ্ছে।) ইরান আরবীদের বিরুদ্ধে আনবিক বোমা তৈরি করছে। অন্য দিকে পশ্চিমা বিশে^র সাথে তাদের সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। বস্তুত আমরা ইরানের সাথে পশ্চিমাদের যে খারাপ সম্পর্ক ও বাদানুবাদ দেখতে পাই তা মুসলমানদের ধোঁকা দেয়ার জন্য একটি কূটনৈতিক আলখাল্লা মাত্র। যেই আলখাল্লার নিচে এই গুপ্ত রহস্য লুক্কায়িত আছে। হায়! শায়খুল হিন্দ রহ. এর উত্তরসূরিগণ এই স্থানে যদি ব্যর্থ না হতেন।
অধম বান্দা কয়েক দিন পূর্বে হযরত মাওলানা আব্দুল কাদের রায়পুরী রহ.Ñএর মালফুজাত পড়ছিল। হযরত রায়পুরী রহ. অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে প্রায়শই বলতেন, ‘মৌলভী হেরে গেছে।’ এই মৌলভীরা ততদিন পর্যন্ত পরাস্ত হতে থাকবে যতদিন না তারা শায়খুল হিন্দ রহ. এর নীতি ও কর্মকৌশলকে কার্যকর করবে এবং সমসাময়িক চাহিদার ব্যাপারে সচেতন হবে। আজ দারুল উলূমের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। যদি এই সংখ্যা লাখের কোটায়ও পৌঁছে যায় তবুও শায়খুল হিন্দ রহ. এর নীতি ও কর্মকৌশল হতে বিমুখ হয়ে আমরা কেবল হারতেই থাকব।
তবে উচ্চতর শিক্ষা তথা তাকমীল সমাপনকারী শতকরা এক দুজনকেও যদি এই কাজের জন্য তৈয়ার করা হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ এই সমস্যা কাটিয়ে উঠে আমরা সফলতার মুখ দেখতে পারব।
অধম বান্দার এ বিষয়গুলোর ওপর বহু চিন্তা ফিকির ও গবেষণা করেছি এরপর মনে হয়েছে যে, আমাদের এই অবস্থার বড় ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, অধঃপতনের এই যুগে পাঠ্যপুস্তকে কিংবা সিলেবাসে যখন দেখি যে, আমাদের কয়েকশত বছর পূর্বে লিখিত কিতাবগুলোতে বর্তমান সময়ের হাজারো এমন সব মাসআলার সমাধান আমরা পাচ্ছি যেগুলো সে সময় ছিল না বরং উলামা ও ফুকাহাগণ সম্ভাবনার ভিত্তিতে সেগুলোর সমাধান লিপিবদ্ধ করেছিলেন। যা আজ একশত কিংবা দুশত বছর পর বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি যে, সে সময়ের উলামায়ে কেরাম তাদের চিন্তা ধারার বিচারে স্বীয় যামানা হতে শত বর্ষ এ্যাডভান্স তথা অগ্রগামী ছিলেন। অন্যদিকে আমাদের এই অধঃপতনের যুগে সমকালীন চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা হতে চোখ, কান বন্ধ করে আমরা পেছনে যেতে যেতে সপ্তদশ শতকে গিয়ে ঠেকেছি। আমরা যে যুগে বাস করি সে যুগের চাহিদা হতে চোখ বন্ধ করে অতীতকালের এমন পুস্তকাদী ও বিষয়াশয় নিয়ে পড়ে আছি যা বর্তমান সময়ে অচল ও অনর্থক।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ফিলোসফি ও দর্শনের ওই সকল অধ্যায় নিয়ে পড়ে থাকা যা ২য় কিংবা ৩য় হিজরী শতকের আলচ্য বিষয় ছিল। অনুরূপভাবে বর্তমান সময়ে প্রচলিত যে দর্শন, চিন্তাধারা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আছে এর পরিবর্তে ৩য় হিজরী শতকের চিন্তাধারা ও আলোচ্য বিষয় নিয়ে বহস করা। জাবরিয়া, কাদরিয়া, খারেজিয়া, মুতাযিলা এরকম অনেক বিষয় আমাদের মাদরাসাগুলোর পাঠ্যপুস্তকে সিলেবাসভুক্ত রয়েছে। অথচ এই নতুন যুগে ঊনবিংশ শতক থেকে লর্ড মিকালে কর্তৃক প্রণিত শিক্ষাব্যবস্থার বদৌলতে ইসলামী দর্শন ও জগদ্বিখ্যাত বড় বড় ইসলামী দার্শনিক ও চিন্তাবিদদের নাম পর্যন্ত এই নতুন প্রজন্ম জানে না। এর স্থলে বিগত দু’তিন শতকে পশ্চিমা বিশে^ তৈরি হওয়া বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের এবং বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কার সম্পর্কে তারা ওয়াকিফহাল রয়েছে।
যেমন বিজ্ঞানী নিউটন হাইকেল, ডারউইন, ফ্রায়েড, আলফ্রেড প্রমুখ বিজ্ঞানীর থিউরী মানুষ জানে। অনুরূপভাবে বিভিন্ন তন্ত্র বা ইজম যেমন কমিউনিজম, সোসালিজম, ক্যাপিটালিজম, ল্যাবরিজম, সেকুলারিজম ইত্যাদি দ্বারা মানুষ প্রভাবিত হচ্ছে। আর এভাবেই আধুনিক শিক্ষিত ও মাদরাসা শিক্ষিতদের মধ্যকার চিন্তাগত ও আদর্শগত ব্যবধান আকাশ-পাতাল হয়ে গেছে।
যখন উলামায়ে কেরাম নতুন যামানার দর্শন, চিন্তাধারা এবং চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগতি লাভ না করবে তখন তারা সে যুগের সমস্যাবলীর সঠিক সমাধান কীভাবে দিবে?
আমাদের সোনালী যুগের উলামায়ে কেরাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইমিয়, ফখরুদ্দীন রাজি, ইমাম গাজালী, ইবনে রুশদ, ইবনে সীনা, ইমাম রাযী, জাবির ইবনে হাইয়ান, তাবারী, আল বিরুনী, ওমর খৈয়াম, ফারাবী, আল হাররামী, আল মুগনীসহ প্রমুখ যুগ শ্রেষ্ঠ ইসলামী দার্শনিকগণ তৎকালীন সময়ের গ্রীক দর্শন, সমসাময়িক জ্ঞান-বিজ্ঞান, মানতেক, ফালসাফা ইত্যাদি ক্ষেত্রে খোদ গ্রীকদের চেয়েও বেশি পারঙ্গমতা অর্জন করেছিলেন। এ জন্যই তারা তাদের যামানার মুসলিম উম্মাহকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি পশ্চিমা তথা গ্রীক দর্শনের অপকারী ও ক্ষতিকর বিষয়গুলো হতে উম্মতকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, উল্লেখিত মানতেক, ফালসাফা ইত্যাদি পূর্বেকার যামানার সমসাময়িক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও পশ্চিমা দর্শন ছিল। যা আজও আমাদের কাছে গলার হারের মতই মহামূল্যবান হয়ে আছে। অথচ স্বয়ং গ্রীক ও পশ্চিমারা চার-পাঁচশত বছর পূর্বেই এই পুরাতন দর্শন ও চিন্তাধারা পরিত্যাগ করেছে। এর স্থলে নতুন দর্শন ও আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তি জায়গা দখল করে নিয়েছে। দুঃখের বিষয় হল আমাদের উলামায়ে কেরাম এই নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শনের প্রতি ব্যাপক অনিহাভাব ও উদাসিনতা প্রদর্শন করছেন।
অধম বান্দা পূর্বেও বর্ণনা করেছি যে, আজ আমরা শায়খুল হিন্দ রহ. এর কর্মকৌশল ও নীতির যুগে বাস করছি। সুতরাং আমরা যদি বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শায়খুল হিন্দ রহ.Ñএর দু’টি সুক্ষ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করি তাহলেই আমরা জাতির সঠিক পথপ্রদর্শক হতে পারব।
এখন প্রশ্ন হল এই বিষয়গুলো আমরা কিভাবে কার্যকর করব কিংবা এর শুরুটা কিভাবে হতে পারে? এর সমাধান হল, আমাদের ‘রেজাল সাঝি’ করতে হবে। অর্থাৎ এর জন্য জরুরি হল আমাদের মাদরাসাগুলো হতে প্রতি বছর কমপক্ষে শতকরা চারজন এরকম আলেম তৈরি হতে হবে যারা ইলমেদীনের ক্ষেত্রে যোগ্য হওয়ার পাশাপাশি সমসাময়িক জ্ঞান-বিজ্ঞান, আধুনিক দর্শন ও ফিলোসফি সম্পর্কে যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ ওয়াকিফহাল হয়। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ইসলামের হুকুম মর্মে আশ^স্ত করতে সক্ষম হবে যে, এটাই বিশ^বাসীর ইহকালীন কল্যাণ ও সফলতার জন্য একমাত্র সঠিক পথ ও পন্থা এবং পরকালীন মুক্তির সোপান। আর এটা এমনি এমনি অর্জিত হবে না বরং এর জন্য প্রচুর মেধা ও শ্রম ব্যয় করতে হবে এবং সর্বোচ্চ স্তরের মেহনত-মুজাহাদা করতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থা ও সিলেবাসকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। নতুবা আমরা সারাজীবন যামানার অবজ্ঞা ও লাঞ্ছণার বোঝা মাথায় নিয়ে কাঁদতে থাকবো। আর আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে বিশেষতঃ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদেরকে ইসলামের শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে থাকবে।
আলহামদুলিল্লাহ! আশার বাণি হল ইদানিং পাকিস্তানে জামেয়াতুর রশীদ নামে যুগোপযোগী একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। জামেয়াতুর রশীদের গ্রাজুয়েট তরুণ আলেমগণ দেশের বিভিন্ন শহরে গুরুত্বপূর্ণ খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছেন। তারা দেশের ইউনিভার্সিটিসমূহের যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে টেনে তাদেরকে দীনি ও সমসাময়িক বিষয়ের উপর পারঙ্গম করে তুলছে। মনে হচ্ছে শায়খুল হিন্দ রহ.Ñএর নীতির উপর কাজ শুরু হয়ে গেছে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশীদের জন্য আনন্দের সংবাদ হলে পাকিস্তানের জামেয়াতুর রশউদের আদলে ঢাকা, মিরপুরে জামেয়াতুর রাশাদ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়েছে। এখানকার শিক্ষার্থীগণ আলেম হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে মাস্টার্স/গ্রাজুয়েশন করবে। ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমাধ্যমিক লেভেল পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে পর্যায়ক্রমে এটি অনার্স মাস্টার্স পর্যন্ত উন্নীত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এটি স্বতন্ত্র ইউভার্সিটির রূপ লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে তাদের প্রতি আমার নসিহত কিংবা ওসিয়ত যাই বলুন না কেন; যারা এই ময়দানে কাজ করছেন বা করতে চান তাদের এই ময়দান পরিচালনার জন্য সকল সদস্যদের নিজেদেরই তৈরি করে নিতে হবে।
দেখুন না! হযরত শায়খুল হিন্দ রহ.Ñএর পুরো টিম তাঁর নিজ হাতেই তৈরি ছিল। কেউ তাকে তৈরি করে দেননি। সুতরাং যেহেতু খোদ শায়খুল হিন্দ রহ. রেডিমেট কোন সদস্য পাননি, সুতরাং আপনিও পাবেন না। কেননা এই মহান কাজ মধ্যযুগে প্রণিত শিক্ষাব্যবস্থার দ্বারা সম্পন্ন হতেই পারে না। ওয়ামা তাওফীকি ইল্লাবিল্লাহ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন