শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

ইসলামী দাওয়াতের সমন্বিত কর্মপদ্ধতি প্রয়োজন


মাওলানা সাইয়েদ ওয়াজিহ রশিদ নদভী

বাণী আল্লাহ তাআলার অশেষ মেহেরবানী পৃথিবীতে যদিও মন্দের উপাদান ও উপকরণ বেড়ে চলেছে এবং পশ্চিমা সভ্যতার প্রভাবে ধর্ম নৈতিকতা ও মানবীয় মূল্যবোধসমূহ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তবুও ভালোর উপকরণ ও উপাদানসমূহেও দৃশ্যমান সংযোজন ঘটছে। ধ্বংসলীলার ভস্মে সত্য অনুসন্ধানের স্ফুলিঙ্গ প্রজ্বলিত রয়েছে এবং সত্যপ্রত্যাশী ও কল্যাণকর্র্মী রয়েছেন বেশ অনেকেই। তারা কল্যাণের পথে মূল্যবান থেকে মূল্যবানতর বস্তু উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। এই রূপ-রস-গন্ধের পৃথিবী সৃষ্টির সূচনাকাল থেকে এমন নূরানী অবয়ব ও পবিত্র নিষ্কলুস অন্তরের মানুষে সমৃদ্ধ হয়েছে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথের এমন মুজাহিদ ও যোদ্ধারা রয়েছেন, যারা রাত-দিন মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার চিন্তা ও  চেষ্টা করে থাকেন। যারা মানুষকে সংকীর্ণ জগত থেকে প্রশস্ততার দিকে, ভ্রান্ত ধর্মসমূহের জুলুম-নির্যাতন ও সন্দেহ-সংশয়ের অন্ধকার থেকে, বিভ্রান্তিকর ধ্যান-ধারণা ও জড়বাদ থেকে আন্তরিক স্বস্তি-প্রশান্তি ও সার্থকতা-সৌভাগ্যের দিকে অগ্রগামী করার জন্য সচেষ্ট রয়েছেন।
এই পৃথিবীপৃষ্ঠ চিরকাল এমন নিষ্কলুস ও সৎ স্বভাব মানুষে সমৃদ্ধ ছিল। যাদের দৃঢ় সংকল্প ও অবিচলতাকে কোন প্রবলবায়ু নড়বড়ে করতে পারেনি, উদ্দেশ্য লক্ষ্য অর্জনে কোন উত্তেজনা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি এবং জীবনের বস্তুগত চাহিদা তাদের জন্য অজুহাত হয়নি। সত্যের বাণী সমুন্নত করতে এ ধরনের মানুষের অন্তর সবসময় অস্থির থাকত। সত্যের জন্য তারা সবধরনের ত্যাগ স্বীকার করতেন এবং এই রাস্তায় উদ্ভূত দুনিয়াবী সমস্যাবলীতে তারা স্বাদ অনুভব করতেন। বঞ্চনা ও আপাতঃ ব্যর্থতায় তারা সফলতার আনন্দ অনুভব করতেন। বিশ্বের ভবিষ্যত উজ্জ্বল হবে যদি এরকম মানুষ বিদ্যমান থাকেন যারা পৃথিবীর শোরগোল ও হাঙ্গামা এবং জড়বাদী জীবনের শোরগোলের মাঝে সত্যের বাণী সমুন্নত করবেন,সত্যকে মেনে নেবেন এবং তা আন্তরিকভাবে স্বীকার করবেন। সত্যের প্রচারকে মূল্যায়ন ও সম্মান করবেন এবং নিষ্ঠাবান প্রচারকের কথাকে মনোযোগের সাথে শোনার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন।
সত্য পথের ব্যাপারে জনগণের আন্তরিকতার প্রমাণ এ থেকে পাওয়া যায় যে, জনগণ নিষ্ঠাবান প্রচারক ও দীনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে সাহায্য করছে। ধর্মীয় ও নৈতিক সাহিত্যের সমাদর করছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় মাদরাসা ও শিক্ষা-দীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্থ ব্যয় করছে। যদি তাদের সমস্ত চেষ্টা ও তৎপরতা পর্যালোচনা করা হয় যা চিন্তাগত জাগরণ, শিক্ষা-দীক্ষা, সমাজ, অর্থনীতি ও জীবনের আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীনি প্রেরণায় করা হচ্ছে, তাহলে এগুলোকে সেই আন্তর্জাতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান গুলোর চেয়ে উন্নত বলে দেখা যাবে যাদের সব ধরনের উপকরণ ও উপাদান রয়েছে। বিভিন্ন প্রকারের বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও এই সব দাওয়াতী ও শিক্ষাবিষয়ক প্রচেষ্টার সফলতা দেখে ইসলামের শক্ররা ভীত হয়ে পড়েছে এবং তারা সত্যের বাণী দাবিয়ে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তারা দাওয়াতী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোকে নিত্য-নতুন সমস্যাবলী, জটিলতা ও ষড়যন্ত্র এবং আরও নানা সমস্যাতে পেঁচিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চেষ্টা করছে। কোথাও ইসলাম প্রচারকদের ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করা হচ্ছে, কোথাও তুচ্ছ ব্যাপারে ও বিতর্কে তাদের শক্তি নষ্ট করা হচ্ছে, কোথাও অভ্যন্তরীণ বিবাদ ও বিভেদ উসকে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও তাদেরকে শিক্ষা-দীক্ষা ও উন্নতির ক্ষেত্রে দূরে রাখা হচ্ছে, কোথাও গণবিদ্রোহের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করা হচ্ছে, কোথাও সংস্কার, পরিবর্তন ও উন্নয়নের নামে সা¤্রাজ্যবাদী ও নাস্তিক্যবাদী শাসনব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
সত্য পথের ব্যাপারে শুভ লক্ষণ ও আশা সৃষ্টি হয়েছে সেসব সক্রিয় সংস্কারমূলক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠাকে দেখে, যারা পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করে যাচ্ছে। যদিও এই সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলো সারা বিশ্বে বিস্তৃত মানবতার দাবি ও প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় এবং মানবজাতির সামনে উদ্ভূত সমস্যাবলী ও জটিলতা,মানবজাতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র ও তাকে অন্যান্য সমস্যায় পেঁচিয়ে রাখার আর্ন্তজাতিক চেষ্টার তুলনায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো তেমন গুরুত্ব রাখে না, কিন্তু সংখ্যার স্বল্পতা ও উপকরণের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এগুলো মানবজীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে এবং জীবন ও চিন্তার অনেক রোগের জন্য তা প্রতিষেধক। এগুলোর মাধ্যমে মানবজীবনে এক প্রাণ, এক অনুকূল ও এক সুস্থ চিন্তা সঞ্চারিত হচ্ছে, আগে যার অভাব ছিল। বুদ্ধিজীবী ও গবেষকরা জ্ঞান ও চিন্তার ক্ষেত্রে এমন এমন বিশ্লেষণ শুরু করেছেন যেগুলো এতদিন উপেক্ষিত ছিল। সাংস্কারিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য, সংহতি, স্থিতিশীলতা ও দৃঢ়তা সৃষ্টি করার জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণরূপে চেষ্টা করছে এবং এজন্য বাস্তবসম্মত কর্মসূচি নিচ্ছে।
ইসলামপন্থীদের সংস্কারমূলক প্রচেষ্টাসমূহ সবধরনের বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও দিন দিন বাড়ছে ও ছড়িয়ে পড়ছে। তারা একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব বলয় সৃষ্টি করেছে। এগুলো এখন কেবল মুষ্টিমেয় মানুষ ও সীমাবদ্ধ উপকরণে গঠিত নয়। বরং নতুন জীবন ও নতুন প্রাণ সেগুলোকে দিন দিন উজ্জ্বল করছে যা সত্যের বাণীসমুন্নতকারীদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে দান করা হয়ে থাকে। এভাবে আল্লাহ তাআলা দীনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই উম্মতকে অসংখ্য সম্পদে সমৃদ্ধ করে রেখেছেন। এজন্য এখন অত্যাচার ও অবিচারের অভিযোগ করার অবকাশ নেই। যদিও অতীতে সত্যের দাওয়াতের পথ সংকীর্ণ ছিল এবং এপথ জটিলতায় পূর্ণ ছিল। কিন্তু এখন দাওয়াতী কাজও জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম হয়ে গিয়েছে। এই পথে নিষ্ঠাবান ও নিষ্ঠাহীন উভয়েই সক্রিয় হয়েছে এবং এতে এমন কিছু উপাদান আমদানি হয়েছে যা ইসলামী পরিবেশের সাথে মিল খায় না। ফলে কখনো কখনো এমন আচরণ ও কাজকর্ম প্রকাশ পায় যা প্রকৃত ইসলামী শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্য রাখে না। ইসলামী কর্মকা- তা-ই যা মানবতার সংস্কার করে, জড়বাদী প্লাবন রোধ করে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে যেগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অতএব এখন তাদের প্রয়োজন নিরেট ইসলামী ধাঁচ ও শিক্ষা অনুযায়ী সংগঠিত আকারে নিজেদের মিশন কার্যক্রম চালু করা এবং এগুলোকে নাশকতা ও সংঘর্ষ থেকে রক্ষা করা যাতে তাদের প্রচেষ্টাসমূহ বিফলে না যায়। কিংবা তারা এমন সমস্যায় জড়িয়ে না পড়ে যা তাদের কর্মক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তেমনি তাদের উচিত উত্তেজনা সৃষ্টি ও অপ্রয়োজনীয় প্রচারণা থেকেও বিরত থাকা।
দ্বিতীয়তঃ বর্তমানে বিশ্বে যেসব প্রচেষ্টা চালু রয়েছে, এগুলো কর্মীদের রুচি ও অবস্থা অনুযায়ী ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা এবং জটিল অবস্থায়ও এগুলো নিষ্ঠার সাথে সক্রিয় ও চলমান রয়েছে। অথচ ঔপনিবেশিক যুগে ইসলাম প্রচারকরা কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতেন এবং ঔপনিবেশিক শাসন পারস্পারিক ঐক্য, সংহতি ও মতবিনিময়কে কঠিন করে দিয়েছিল। কিন্তু এখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চনে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে যেগুলো পৃথিবীর পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহ অবগত থাকে এবং তাদের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে অনুভূত হয়েছে যে, প্রয়োজন অনুযায়ী উপকরণ ও সামগ্রীর জোগান সাপেক্ষে এসব প্রচেষ্টার পারস্পারিক ঐক্য ও সহযোগিতা সৃষ্টি করতে হবে। কেননা এখন একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার পথ সুস্পষ্ট হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৈঠক, আলোচনা ও সেমিনারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন উপলক্ষে আমরা নিজের প্রচেষ্টাগুলোর পর্যালোচনা করার এবং পরিস্থিতি ও অবস্থা অনুযায়ী কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে পারি যাতে পৃথিবীর কোন অঞ্চল সত্যের বাণী থেকে শূন্য না থাকে এবং আল্লাহর কোন বান্দার সত্যের পিপাসা অনিবারিত না থাকে।
ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই কল্যাণ কাজে নিয়োজিত এবং সেগুলোর রয়েছে ঐক্য ও সংহতি এবং দীক্ষা ও পৃষ্ঠপোষকতার বৈশিষ্ট্য। তাদের এই সক্ষমতা রয়েছে এইসব চেষ্টাকে এক প্লাটফর্মে একত্র করার এবং আঞ্চলিক প্রচেষ্টাগুলোকে পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মপদ্ধতি সরবরাহ করার। এভাবে সবাই একত্র হয়ে একই জাহাজের চালক ও কাপ্তানে পরিণত হবে এবং এমন একটি সবুজ-শ্যামল অঞ্চলের মত হয়ে যাবে, যাকে একই পানি সিক্ত করবে। এভাবে তারা মহান প্রভুর আদেশে ফলপ্রসু হয়ে যাবে। কিন্তু স্বয়ং ইসলামী দেশসমূহের সরকারগুলোই এই ঐক্য ও সংহতির পথে প্রতিবন্ধক হয়ে রয়েছে। দাওয়াতী ও ইসলামী কাজে নিয়োজিতদের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। এমনকি ইসলামী পরিচয় ও ধর্মীয় নির্দশনগুলোকেও সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা বলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি এই যে, যারা কাজ করছেন তাদের কর্মকা- একই স্থানে সীমাবদ্ধ রয়েছে অথচ অন্যান্য অঞ্চল পিপাসার্ত অবস্থায় জীবন-যাপন করছে। কেননা মুসলমানরা পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে বসবাস করছে এবং এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে যেখানে  উপকরণ ও সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে। আবার কিছু জায়গায় দারিদ্র্য ও অনাহারের রাজত্ব এবং সম্পদের অভাব রয়েছে। তেমনি মুসলমানদের সমস্যাবলীও বিচিত্র। কোথাও শিক্ষার, কোথাও অর্থনৈতিক সংস্কারের, কোথাও সমাজ সংস্কারের, কোথাও দীনি দাওয়াত ও দীক্ষার, আবার কোথাও মানবসেবার প্রয়োজন। এইসব কর্মক্ষেত্রে সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। ইউরোপীয় দেশগুলো দাবি করে যে, তারা সেক্যুলার। কিন্তু তারা শুধু নিজেদের গোষ্ঠী ও জাতিগুলোর চিন্তা করে। নিজেদের জীবনধারা, নিজেদের রচিত সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে তিনি বিস্তৃত করার জন্য নিজেদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক উপকরণসমূহ ব্যবহার করে থাকে এবং সেগুলো জোরপূর্বক কার্যকর করার জন্য বিভিন্ন প্রকারের আইন তৈরি করে। যে দেশগুলো তাদের স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য করে না, তাদেরকে তারা শাস্তি দিয়ে থাকে। পক্ষান্তরে ইসলামী দেশগুলো এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্বার্থপরতা ও গা বাঁচিয়ে চলার নীতি অবলম্বন করে এবং অন্যান্য ইসলামী দেশে ঘটমান মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নীপিড়নের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতেও সম্মত হয় না। এমনকি মানবিকতার ভিত্তিতে ইসলামী নীতি অনুযায়ী নিজস্ব মত প্রকাশেও রাজি হয় না। এই সাহস শুধু সেইসব সংগঠন ও আন্দোলন করে থাকে, যেগুলোর ওপর তাদের সরকারগুলোর পক্ষ থেকে অনেক বিধি নিষেধ ও কড়াকড়ি আরোপিত রয়েছে। কোন কোন সময় তো এই ইসলামী দেশগুলো জুলুম ও অত্যাচারকারীদের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে এবং শত্রুদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করে থাকে। সেই সাথে ইসলামী আন্দোলনগুলো এমন ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়ারও মোকাবেলা করে থাকে, যা ইসলামী বিষয়গুলোকে ভিন্নভাবে চিত্রিত করাকে নিজের প্রধান কর্তব্য সাব্যস্ত করে। এইসব মিডিয়ার পূর্ণ শক্তিতে মোকাবেলা করা প্রয়োজন এবং এ কাজ ইসলামী সরকারগুলোর সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। আজ প্রয়োজন যেখানে যেখানে মুসলমানরা বসবাস করছে তাদের অবস্থা ও সমস্যাবলীর পর্যালোচনা করা, তাদের প্রকৃত অবস্থা ও বিষয়াদির পূর্ণ বিশ্লেষণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইলমী ও চিন্তাগত পুঁজির আদান-প্রদান ও সরবরাহ করা। এ রকমের অঞ্চল প্রত্যেক দেশে আছে, যারা উপেক্ষিত রয়েছে এবং নিজেদের প্রতি মনোযোগ প্রত্যাশী।
বর্তমানে সব মনোযোগ কয়েকটি বিশেষ দেশ ও অঞ্চল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়েছে। এজন্য যখন অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনুন্নত দেশগুলোর ওপর জরিপ চালানো হবে এবং সরকারী মহল ও স্বেচ্ছাসেবামূলক আন্দোলনগুলোর মধ্যে পাস্পারিক সহযোগিতা সৃষ্টি করা হবে তখন এই আন্দোলনগুলোর প্রভাব ও ফল আরও অনেক বেশি ও ফলপ্রসু হবে। বৃষ্টি প্রকৃত তা-ই যা অবারিত হয় এবং সাধারণ বিশেষ সকলকেই সিক্ত করে। কিছু প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ শক্তি এমন প্রশ্ন ও অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে ব্যয় হয় যার এখন কোন প্রয়োজন নেই। আজ প্রয়োজন কর্মের নতুন ক্ষেত্র নির্বাচন করা। ব্যবহারিকভাবে ইসলামের সত্যতা ও সক্ষমতাকে প্রমাণ করা। জনজীবনের সমস্যাবলী ইসলামী শিক্ষার আলোকে কার্যকর উপায়ে সমকালীন তত্ত্বের আলোকে সমাধান করা এবং জীবনের সকল বিভাগে ইসলামের সঠিক ও উন্নত আদর্শ উপস্থাপন করা, যাতে ইসলামের সঠিক চিত্র প্রকাশ পায় এবং কথা ও কাজের মধ্যে যে বৈপরিত্য রয়েছে তা দূর ও অবসান হয়।
উর্দূ পাক্ষিক তা’মীরে হায়াত থেকে
ভাষান্তর : মাওলানা আসআদুজ্জামান

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন