MISBAHUL ISLAM
মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২০
রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
বড় যদি হতে চাও- মুহাম্মাদ যাইনুল আবেদিন
http://misbahul17.blogspot.com/
(১ম কিস্তি)
বাদশা হারুনুর রশীদ- পৃথিবীর ইতিহাসে পূর্ণিমার মতো উজ্জ্বল এক নাম। আব্বাসী শাসনের তারকা-পুরুষ। সবচে’ বিখ্যাত এই আব্বাসী খলীফা ব্যক্তিজীবনে ছিলেন দুঃসাহসী। জন্মেছিলেন ১৪৯ হি. ৭৬৬ ঈ. সালে। মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৭০ সালে বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্যের খলীফা হোন। তার খলীফা হওয়ার ঘটনাটিও কম চমৎকার নয়। ১৭০ সাল। পনের রবিউল আউয়াল। শুক্রবার। তার সহোদর বাদশা হাদী ইবনে মাহদী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- এই রাতেই তাকে হত্যা করবেন। আল্লাহর কুদরত- হাদী নিজেই এই রাতে মারা যান।
মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
এক টাকার মেশিনের গল্প
Jahangir Ali shared Borhan Uddin's photo.
যিনি আত্মহত্যার আগে লিখে গেলেন নিজের জীবনের কাহিনী। শেয়ার অবশ্যই অবশ্যই করবেন?
.
যাদের সন্তান বা স্বামী বিদেশে থাকেন তারা অবশ্যই দেখবেন কত কষ্ট করে আপনাদের জন্য।
.
ছবিতে ঝুলে থাকা লোকটা কে দেখছেন, উনি ছিলো আপনাদের সোনার বাংলার রেমিটেন্স যোদ্ধা, একটি পরিবারের টাকার মেশিন। কাতার প্রবাসী হিসাবে প্রবাসীদের সহযোদ্ধা, জীবন যুদ্ধে
.
যাদের সন্তান বা স্বামী বিদেশে থাকেন তারা অবশ্যই দেখবেন কত কষ্ট করে আপনাদের জন্য।
.
ছবিতে ঝুলে থাকা লোকটা কে দেখছেন, উনি ছিলো আপনাদের সোনার বাংলার রেমিটেন্স যোদ্ধা, একটি পরিবারের টাকার মেশিন। কাতার প্রবাসী হিসাবে প্রবাসীদের সহযোদ্ধা, জীবন যুদ্ধে
রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
সোনার গাঁও -ছানা উল্লাহ, সদস্য নং ৬৫
by peacebangla
‘ঘুরে এলাম সোনার গাঁও’ ছোট এক টুকরো কাঁচের উপর সুন্দর করে লেখা। ২০ টাকা দাম। প্রথমে একটা কিনলাম হারিয়ে গেল। ফিরে আসার সময় স্মৃতি হিসেবে রাখার জন্য আরেকটা কিনে নিলাম। সোনার গাঁও শিক্ষা সফরে গিয়েছিলাম গত ১৭ ডিসেম্বর।
ফজরের নামাজ পড়েই রওয়ানা দিলাম। পৌঁছতে পৌঁছতে সাড়ে ৮টা। জাদুঘরে ঢুকলাম সাড়ে ১০টায়। প্রথমেই চোখ পড়লো গরুর গাড়ির উপর। গাড়ির পিছন দিয়ে ঠেলছে দু’জন। মাটি দিয়ে তৈরি এ গাড়ি মনে করিয়ে দেয় গ্রামের কথা। ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে এখানে অনুষ্ঠান হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়েছিল কাঠ দিয়ে তৈরি নানা রকম জিনিস; নৌকা, পুতুল, মাছ আরো কত কী। দেখতে খুব সুন্দর লাগে তাদের। ঈসা খাঁর বাড়িটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। পাথরে খোদাই করা ১৩০৮ খ্রিস্টাব্দ। দেখলে মনে হয় না ৭০০ বছর পূর্বে তৈরি করা হয়েছে। যেন কয়েক দিন আগের তৈরি করা। নির্মাণ কাজ চলার কারণে ভেতরে ঢুকতে পারলাম না। তবে বাড়ির গেট দেখে মনে হলো ঈসা খাঁর সাথে ঠিক মানানসই হয়েছে। ঈসা খাঁ শুধু সাহসিই ছিলেন না বরং সুরুচিরও অধিকারী ছিলেন, এ বাড়িটিই তার প্রমাণ। বড় চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন বাড়িটি। দুপাশে দুটি পুকুর। চোখ না জুড়িয়ে যাবে কোথায়!
ঈসা খাঁ-সহ আরো কতো মুসলিম শাসক এখানে রাজত্ব করেছেন তাদের কোনো ভাস্কর্য চোখে না পড়লেও বঙ্গবন্ধু আর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ভাস্কর্য ঠিকই চোখে পড়লো। ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে মুসলমানরা বিধর্মীদের এ কালচার গ্রহণ করছে।
জাদুঘরের বাইরে দেখি ঐতিহ্যবাহী বাংলার কতো জিনিস সাজানো রয়েছে। ঢুকলাম লোক শিল্প জাদুঘরে। লোক শিল্প নিয়ে একটি গল্পও পড়েছি ইতিপূর্বে। কৌতূহলী চোখ প্রথমে পড়লো সুন্দর করে সাজানো নৌকার ওপর। কাঠের শিল্পে বাঙ্গালীরা পিছিয়ে নেই, তার প্রমাণ এই জাদুঘর। ভারী সুন্দর কাঠের পালকি, পালঙ্ক, সিন্দুক। আরো নাম না জানা কতো জিনিস! নকশী কাঁথার নাম অনেক শুনেছি কখনো দেখার সুযোগ হয় নি। তাই ভালোভাবে দেখলাম কাঁথাগুলো। উপরে কতো রকম ছবি আঁকা। সবটাই সমান সুন্দর। একটি বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা। এটি সংগ্রহ করা হয়েছে রংপুর থেকে। হৃদয় দিয়ে দেশকে ভালোবেসে নিংড়ে দিয়েছে সবার জন্য। সত্যিই অদ্ভুত।
আরো অদ্ভুত লাগলো প্রাচীন বাংলার অলংকারগুলো দেখে। অদ্ভুত তাদের নাম। তাতে বারী অলংকার তারা কীভাবে ব্যবহার করতো তাই ভেবে পেলাম না। আরও আছে কাসা আর পিতলের নানা জিনিস। জাদুঘর থেকে বের হয়ে সোজা চলে এলাম পূর্ব দিকে। প্রথমেই নজড় পড়লো একটি লাইব্রেরীর দিকে। তাতে রয়েছে ইতিহাসের অনেক বই। লাইব্রেরীর সামনে দিয়েই বিশাল এক দিঘী। তাতে রয়েছে ছোট ছোট নৌকা। ইচ্ছে করলে নৌকা ভ্রমণের স্বাদটাও মিটিয়ে নেয়া যায়। আরো সামনে এগিয়ে দেখলাম পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর ঘর। আছে সুন্দর দোকান। যেগুলোর দিকে চেয়ে থাকতে মন চায়। এখানে বিক্রি হয় জামদানী শাড়ি, মাটি আর কাঠের তৈরি নানা জিনিস।
এখানে প্রতিটি জিনিসই সুন্দর। বেশি সুন্দর পরিবেশ। ফেরিওয়ালা, মদখোর, পকেটমারদের দেখা মিলবে না এখানে। কপোত আর কপোতি জোড়াগুলোও দেখা ভার। এখানে যা আছে তা এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। গ্রামীণ পরিবেশ আর প্রাচীন সরঞ্জাম দুয়ে মিলে অপূর্ব করে তুলেছে সোনার গাঁওকে। বিশাল জায়গা জুড়ে এর সীমানা। এক পাশ না ঘুরতেই আযান হয়ে গেল। সেখান থেকে বেরিয়ে নামাজ পড়ে ‘পানাম সিটিতে’ গেলাম। মোঘলদের থেকে আত্মরক্ষার জন্য ঈসা খাঁ যেই পরিখা খনন করেছিলেন তা আজও অক্ষুণœ আছে। বাড়িগুলো দেখলে মনে হয় এখনই ভেঙ্গে পড়বে। মাংস বলতেই কিছুই নেই যা আছে তা সেগুলোর হাড়। তাই বাড়ির ভেতরে প্রবেশ নিষেধ। ঘুরতে ঘুরতে আসর হয়ে গেল। নামাজ পড়ে রওয়ানা দিলাম। পথে গাড়ি থামিয়ে মাগরিবের নামাজ পড়ে নিলাম।
শিক্ষা সফরে অনেক কিছুই দেখলাম দু’চোখ দিয়ে। চোখ জুড়ালেও মন জুড়ায়নি। কারণ উপমহাদেশের হাদীসের প্রথম দরসদানকারী শায়েখ আবু তাওয়ামাহ রহ. এর কবর জিয়ারত করা হয়নি, তাই আফসোসের সঙ্গে বলতে হচ্ছে-
এত দেখেও যেন কিছুই দেখা হলো না/এতো ঘুরেও যেন কিছ্ইু ঘুরা হলো না। ‘ঘুরে এলাম সোনার গাঁও’ এ যে কেবল এক টুকরো কাঁচের আয়নার ওপর কয়েকটি শব্দ।
দ্বাদশ শ্রেণী, জামিয়াতুর রাশাদ একাডেমী
ফজরের নামাজ পড়েই রওয়ানা দিলাম। পৌঁছতে পৌঁছতে সাড়ে ৮টা। জাদুঘরে ঢুকলাম সাড়ে ১০টায়। প্রথমেই চোখ পড়লো গরুর গাড়ির উপর। গাড়ির পিছন দিয়ে ঠেলছে দু’জন। মাটি দিয়ে তৈরি এ গাড়ি মনে করিয়ে দেয় গ্রামের কথা। ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে এখানে অনুষ্ঠান হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়েছিল কাঠ দিয়ে তৈরি নানা রকম জিনিস; নৌকা, পুতুল, মাছ আরো কত কী। দেখতে খুব সুন্দর লাগে তাদের। ঈসা খাঁর বাড়িটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। পাথরে খোদাই করা ১৩০৮ খ্রিস্টাব্দ। দেখলে মনে হয় না ৭০০ বছর পূর্বে তৈরি করা হয়েছে। যেন কয়েক দিন আগের তৈরি করা। নির্মাণ কাজ চলার কারণে ভেতরে ঢুকতে পারলাম না। তবে বাড়ির গেট দেখে মনে হলো ঈসা খাঁর সাথে ঠিক মানানসই হয়েছে। ঈসা খাঁ শুধু সাহসিই ছিলেন না বরং সুরুচিরও অধিকারী ছিলেন, এ বাড়িটিই তার প্রমাণ। বড় চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন বাড়িটি। দুপাশে দুটি পুকুর। চোখ না জুড়িয়ে যাবে কোথায়!
ঈসা খাঁ-সহ আরো কতো মুসলিম শাসক এখানে রাজত্ব করেছেন তাদের কোনো ভাস্কর্য চোখে না পড়লেও বঙ্গবন্ধু আর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ভাস্কর্য ঠিকই চোখে পড়লো। ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে মুসলমানরা বিধর্মীদের এ কালচার গ্রহণ করছে।
জাদুঘরের বাইরে দেখি ঐতিহ্যবাহী বাংলার কতো জিনিস সাজানো রয়েছে। ঢুকলাম লোক শিল্প জাদুঘরে। লোক শিল্প নিয়ে একটি গল্পও পড়েছি ইতিপূর্বে। কৌতূহলী চোখ প্রথমে পড়লো সুন্দর করে সাজানো নৌকার ওপর। কাঠের শিল্পে বাঙ্গালীরা পিছিয়ে নেই, তার প্রমাণ এই জাদুঘর। ভারী সুন্দর কাঠের পালকি, পালঙ্ক, সিন্দুক। আরো নাম না জানা কতো জিনিস! নকশী কাঁথার নাম অনেক শুনেছি কখনো দেখার সুযোগ হয় নি। তাই ভালোভাবে দেখলাম কাঁথাগুলো। উপরে কতো রকম ছবি আঁকা। সবটাই সমান সুন্দর। একটি বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা। এটি সংগ্রহ করা হয়েছে রংপুর থেকে। হৃদয় দিয়ে দেশকে ভালোবেসে নিংড়ে দিয়েছে সবার জন্য। সত্যিই অদ্ভুত।
আরো অদ্ভুত লাগলো প্রাচীন বাংলার অলংকারগুলো দেখে। অদ্ভুত তাদের নাম। তাতে বারী অলংকার তারা কীভাবে ব্যবহার করতো তাই ভেবে পেলাম না। আরও আছে কাসা আর পিতলের নানা জিনিস। জাদুঘর থেকে বের হয়ে সোজা চলে এলাম পূর্ব দিকে। প্রথমেই নজড় পড়লো একটি লাইব্রেরীর দিকে। তাতে রয়েছে ইতিহাসের অনেক বই। লাইব্রেরীর সামনে দিয়েই বিশাল এক দিঘী। তাতে রয়েছে ছোট ছোট নৌকা। ইচ্ছে করলে নৌকা ভ্রমণের স্বাদটাও মিটিয়ে নেয়া যায়। আরো সামনে এগিয়ে দেখলাম পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর ঘর। আছে সুন্দর দোকান। যেগুলোর দিকে চেয়ে থাকতে মন চায়। এখানে বিক্রি হয় জামদানী শাড়ি, মাটি আর কাঠের তৈরি নানা জিনিস।
এখানে প্রতিটি জিনিসই সুন্দর। বেশি সুন্দর পরিবেশ। ফেরিওয়ালা, মদখোর, পকেটমারদের দেখা মিলবে না এখানে। কপোত আর কপোতি জোড়াগুলোও দেখা ভার। এখানে যা আছে তা এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। গ্রামীণ পরিবেশ আর প্রাচীন সরঞ্জাম দুয়ে মিলে অপূর্ব করে তুলেছে সোনার গাঁওকে। বিশাল জায়গা জুড়ে এর সীমানা। এক পাশ না ঘুরতেই আযান হয়ে গেল। সেখান থেকে বেরিয়ে নামাজ পড়ে ‘পানাম সিটিতে’ গেলাম। মোঘলদের থেকে আত্মরক্ষার জন্য ঈসা খাঁ যেই পরিখা খনন করেছিলেন তা আজও অক্ষুণœ আছে। বাড়িগুলো দেখলে মনে হয় এখনই ভেঙ্গে পড়বে। মাংস বলতেই কিছুই নেই যা আছে তা সেগুলোর হাড়। তাই বাড়ির ভেতরে প্রবেশ নিষেধ। ঘুরতে ঘুরতে আসর হয়ে গেল। নামাজ পড়ে রওয়ানা দিলাম। পথে গাড়ি থামিয়ে মাগরিবের নামাজ পড়ে নিলাম।
শিক্ষা সফরে অনেক কিছুই দেখলাম দু’চোখ দিয়ে। চোখ জুড়ালেও মন জুড়ায়নি। কারণ উপমহাদেশের হাদীসের প্রথম দরসদানকারী শায়েখ আবু তাওয়ামাহ রহ. এর কবর জিয়ারত করা হয়নি, তাই আফসোসের সঙ্গে বলতে হচ্ছে-
এত দেখেও যেন কিছুই দেখা হলো না/এতো ঘুরেও যেন কিছ্ইু ঘুরা হলো না। ‘ঘুরে এলাম সোনার গাঁও’ এ যে কেবল এক টুকরো কাঁচের আয়নার ওপর কয়েকটি শব্দ।
দ্বাদশ শ্রেণী, জামিয়াতুর রাশাদ একাডেমী
যে চোখের জলে নদী বয়ে চলে –মাওলানা মিযানুর রহমান জামীল
যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেখান থেকে পথের দুরত্ব অনেক। পৃথিবীও জানে এ গন্তব্য দীর্ঘ। জীবনের টান আর প্রতিদিনের গাফলত এ মনযিলের কথা ভুলিয়ে দিয়েছে। কারণ এ যে এক ভয়ংকর প্রবেশদার। যে সমাধির উল্টো পীঠে রয়েছে লাগামহীন দুনিয়ার উDVRANTOন্ত দৃশ্যপট। যার চারদিকে পাষাণ হৃদয়ের হাতছানী।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
