রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

সম্পাদকীয় - মাসিক আর-রাশাদ ফেব্রুয়ারি ২০১৬



মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ রহমতে ‘মাদরাসা দারুর রাশাদের’ মুখপত্র আর রাশাদের আরেকটি সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছে। ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি সামনে রেখে সংখ্যাটি বিন্যস্ত করা হয়েছে স্বাভাবিক কারণে। সাথে থাকছে অন্যান্য নিয়মিত ও প্রাসঙ্গিক বিষয়।

মনের ভাব প্রকাশের বাহন ভাষা আল্লাহ তাআলার বিশেষ দান। অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষের প্রেষ্ঠত্বের অন্যতম প্রধান কারণ এটি। আশরাফুল মাখলুকাত মানব জাতিকে এই অনন্য দানে ভূষিত করায় আল্লাহ তাআলার প্রতি এ সম্পর্কিত কর্তব্যও অর্পিত হয়েছে। ভাষার সদ্ব্যবহারের জন্য যেমন প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তেমনি তার অপব্যবহারের জন্য রয়েছে শাস্তি ও জবাবদিহিতার হুঁশিয়ারি। বনি আদমের প্রতিটি উক্তি ও উচ্চারণ কেরামতের দিন মূল্যায়িত হবে জানিয়েছেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আবার ভাষা ব্যবহারে সংযত ও নিয়ন্ত্রিত থাকার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। ইরশাদ হয়েছে, ‘শ্রেষ্ঠ মুসলিম সেই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’
ভাষা যেমন মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম, তেমনি জ্ঞান চর্চা, জ্ঞান বিনিময় ও জ্ঞান বিস্তারের মাধ্যম। দর্শন ও মতবাদ, ভাবধারা ও চিন্তাধারা প্রচারের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয় ভাষা। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানবগোষ্ঠীর কাছে তাদেরই ভাষায় নবী প্রেরণ করেছেন। তিনি আল্লাহর বিধান ও নির্দেশ নিজ জনগণের ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। আল্লাহর পথে মানুষদেরকে আহ্বান জানাতে তিনি সুন্দর ভাষা ব্যবহার করেছেন।
নিজ জনগোষ্ঠীর ভাষায় মহান রাব্বুল আলামীনের বাণী ও নির্দেশ উপস্থাপন আম্বিয়ায়ে কেরামের সুন্নত। নায়েবে নবী হিসেবে বর্তমানে এই দায়িত্ব বর্তায় উলামায়ে কেরামের ওপর। সেই দায়িত্ব তারা পালন করে এসেছেন ইতিহাসের সব পর্যায়ে। বর্তমানে বাংলাভাষায় ইসলামের বিষয়বস্তু শুধু উপস্থাপন নয়, ব্যাখ্যা বিশ্লেষক ও গবেষণা চলছে। মুসলিম বিশে^র অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. বাংলাদেশের আলেম সমাজকে বাংলাভাষার নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অনৈসলামী ও ইসলামবিরোধী মহলের কবল থেকে বাংলাভাষাকে উদ্ধার করে আলেম সমাজের আওতায় ও নিয়ন্ত্রণে নেয়ার এই আহ্বানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য আলেম সমাজ উপলব্ধি করেছেন বলেই তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছেন অনেক কলমসৈনিক। ইলমে দীনকে শৈলিতাপূর্ণ ভাষায় উপস্থাপনের প্রয়াসে তারা সচেষ্ট। ‘মাদরাসা দারুর রাশাদ’ এই সৈনিকদল তৈরির কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। মাসিক আর রাশাদের নিয়মিত প্রকাশনা সে জন্যই অপরিহার্য ছিল। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা তাতে এখনো সফল হতে পারিনি। সীমাবদ্ধতা ও জটিলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করি।
‘আর রাশাদের’ নতুন সংখ্যাটি প্রকাশের সময়ে আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি ‘মাদরাসা দারুর রাশাদের’ কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে যাঁরা অবদান রেখেছেন, সহযোগিতা করেছেন, আন্তরিকতা দেখিয়েছেন সবাইকে। আল্লাহ তাআলা কবুল করুন জাযায়ে খায়র দান করুন। আমীন।   

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন